প্রকাশিত: Wed, Nov 29, 2023 6:56 PM
আপডেট: Mon, Apr 27, 2026 11:01 PM

[১]চলনবিলে বাউৎ উৎসবে’ মেতেছেন সৌখিন মৎস শিকারীরা

আবুল কালাম আজাদ, পাবনা: [২] পাবনার ঐতিহ্যবাহি চলনবিলে বাউৎ উৎসবে মেতেছেন সৌখিন মৎস শিকারীরা। বিভিন্ন উপকরণ নিয়ে পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার রুহুল বিলে দল বেঁধে চলছে মাছ ধরার এই আয়োজন। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বাউৎ উৎসবে অংশ নেন নানা বয়সী হাজারো মানুষ। তবে, এ বছর বিলে মিলছে না কাঙ্খিত মাছের দেখা। এতে হতাশ ও ক্ষুব্ধ মৎস শিকারীরা। তাদের অভিযোগ, অবৈধ জাল আর গ্যাস ট্যাবলেট দিয়ে মাছ ধরে নিয়েছে প্রভাবশালীরা। মৎস বিভাগের আশ^াস, অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।  

[৩] সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, শীতের কাক ডাকা ভোর থেকে বিভিন্ন যানবাহনে করে পাবনার বিভিন্ন উপজেলা, নাটোর, সিরাজগঞ্জ জেলার নানা বয়সী মানুষ মাছ ধরার বিভিন্ন উপকরণ নিয়ে বিল অভিমুখে ছুটছে। ভোরের আলো ফোটার আগেই বিলপাড়ে হাজির নানা বয়সী হাজার হাজার মানুষ। সবার হাতেই পলো, ঠেলা জাল, বাদাই জালসহ মাছ ধরার নানা উপকরণ। এ চিত্র চলনবিল অঞ্চলের পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার রুহুল বিলের। 

[৪] লোকজ রীতিতে বিলের জলে মনের আনন্দে চলছে মাছ শিকার। দলবেঁধে মাছ ধরার এ আয়োজনে মৎসশিকারীদের ডাকা হয় বাউৎ বলে।

 তাদের ঘিরেই উৎসবের নামকরণ। চলনবিলাঞ্চলে এমন উৎসব চলছে যুগের পর যুগ ধরে। বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর নভেম্বরের শেষে অথবা ডিসেম্বরের শুরুতে মাসব্যাপী চলে এই উৎসব। 

[৫] সপ্তাহের প্রতি শনি ও মঙ্গলবার ভোর থেকে বিলাঞ্চলের পূর্বনির্ধারিত এলাকায় দলঁেবধে মাছ শিকারে নামেন বাউতেরা। বিভিন্ন বয়সী মানুষের উপস্থিতিতে বিলপাড়ে তৈরী হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। কে মাছ পেলো, কি পেলো না তা নিয়ে হতাশা নেই। তাদের কাছে আনন্দটাই বড় কথা। 

[৬] এ ব্যাপারে পাবনা জেলঅ মৎস্য অফিসার আবুল কালাম আজাদ বলেন, জীববৈচিত্রের ক্ষতি না করে উৎসব পালনের আহবান জেলা মৎস্য কমকতার। 


মাছের ক্ষতি করার অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়ার আশ^াস দিলেন তিনি। তবে গ্রামীণ এই ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখতে, কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে খাল-বিল ও জলাশয় খনন করে মাছের প্রাকৃতিক অভয়াশ্রম গড়ে তোলার দাবি সকলের।